Posts

বিধানসভায় অধ্যাপক বদলি বিল পাশ: শিক্ষার সংকটের সমাধান নাকি স্বায়ত্তশাসনের সংকোচন?

Image
অনন্যা দেব  পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মীদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার বিল পাশ হয়েছে। সরকারের যুক্তি হল নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠিয়ে মানবসম্পদের ভারসাম্য ও শিক্ষার মান উন্নত করা হবে। ‘উন্নতি’ জাতীয় সুন্দর ভাষার সহিত নীতি প্রণয়ন করলেই কি তা মহৎ হয়ে ওঠে? এর মাধ্যমে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ার একটি নতুন রাস্তা তৈরি হচ্ছে না? Jadavpur University Teachers’ Association (JUTA)-র বক্তব্য, এই ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তার উপর সরাসরি আঘাত; এমনকি রাজনৈতিকভাবে অপছন্দ অধ্যাপক বা সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই আশঙ্কাকে একেবারে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গত কয়েক সপ্তাহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বর্তমান সরকারের আচরণই এই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে। যাদবপুরে ABVP এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। ABVP-র মিছিল, বিজে...

গাড়িতে E20-র কি প্রভাব পড়ছে? - একটি কথোপকথন

Image
ডিলিজেন্ট-এর পক্ষে অনলাভ ভট্টাচার্যের সাথে এই কথোপকথনে অংশগ্রহণ করেছেন  শুভাশিস মিত্র। তিনি শ্রীরামপুরের বাসিন্দা।       শুভাশিস মিত্র অনলাভ: আপনি তো বাইক চালান এবং বাইক ভালোবাসেন; E20 ব্যবহার করে আপনার বাইকের মাইলেজের উপর কি প্রভাব পড়ছে? শুভাশিস মিত্র:  আমি ২০২০-র জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বুলেট কিনি। Classic 350, গান মেটাল গ্রে, ডবল ডিস্ক। এখন আমার মোটামুটি ১ লাখ কিলোমিটার হয়ে গেছে। আমি নিয়মিত সার্ভিস করাই। ৫,০০০ কিলোমিটার হয়ে গেলে ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করি। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি, বিগত ৭ কি ৮ মাস ধরে মাইলেজ প্রচণ্ড পরিমাণে ড্রপ করেছে। আগে মোটামুটি ৫০০ টাকা দিয়ে আমি দু’দিন গাড়ি চড়তে পারতাম কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। গাড়ির ইঞ্জিনের সাউন্ডটাও একটু চেঞ্জ হয়ে গেছে। হতে পারে যে অনেকদিন ইউজ করলে গাড়ির ইঞ্জিনের সাউন্ডটা চেঞ্জ হয়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে ইঞ্জিন অয়েলের সাথে এর যোগ রয়েছে। আমার BS6-এর প্রথম লটের গাড়ি। কেনার সময় আমার গাড়ির ইঞ্জিনে লেখা ছিল না যে সেটা E20 অ্যাপ্রুভড। এখন যে বুলেট কিংবা অন্যান্য গাড়ি লঞ্চ হচ্ছে, সেখানে ইঞ্জিনে E20 লেখা আছে এমনটা আমি দেখতে ...

কোন অমৃতের সন্ধানে এই উচ্ছেদ?

Image
অভিজ্ঞান চক্রবর্তী   সম্প্রতি আমরা দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে রেলের জমির নাম করে বস্তি উচ্ছেদ। আর রাস্তার হকারদের ক্ষেত্রে স্ট্রীট ভেন্ডিং অ্যাক্ট, ২০১৪-র দফারফা করেই চলছে এই উচ্ছেদ। সেই প্রসঙ্গে না গিয়ে বরং রেল হকার ও বস্তি উচ্ছেদের কারণ, পরিস্থিতি এবং একইসাথে রেলের গঠনগত বিষয়কে বোঝার চেষ্টা করি চলুন আমরা। বিশ্বমানের স্টেশন বানাতে গিয়ে চালানো এই হকার ও বস্তি উচ্ছেদ হল “অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম”-এর অংশ। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পকে ভারত সরকার দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল সারা দেশের ১,৩০০-এরও বেশি রেল স্টেশনকে আধুনিকীকরণ করা। এই প্রকল্পগুলো নিয়ে আসার পেছনে রেলের গঠনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে হবে। ভারতীয় রেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এটি জনপরিষেবা রূপেই পরিচালিত হয়েছে। লাভ ক্ষতির চেয়ে জাতীয় সংযোগ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান ছিল এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৯১ সালের উদারীকরণ পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে রেলের অর্থনৈতিক কাঠামো বদ...

ম্যানচেস্টারপন্থা কি ব্রিটেনের নয়া বামপন্থা?

Image
প্রিয়াংশু দে  ২০শে জুলাই ২০২৬, অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। লেবার পার্টির এই নয়া নেতা কি ওই দেশের বামপন্থার নয়া মুখ? এই বিশ্লেষণ করতে হলে ফিরে যেতে হবে লেবার পার্টির বামপন্থী শিবিরের ইতিহাসে।  ১৯৯০- এর শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মধ্যে ‘ ব্লেয়ারিজমের ’ উত্থান এমন একটা পরিস্থিতিতে হয়েছিল যখন টানা ৪ টি জাতীয় নির্বাচনে তারা হারের মুখ দেখছিল। সমাজতত্ত্ববিদ  অ্যান্থনি গিড্ডেন্স- এর ‘থার্ড ওয়ে’ তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে টোনি ব্লেয়ার বলেছিলেন যে বিশ্বায়নের যুগে পার্টিকে প্রথাগত রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের ধারণা থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ধারণাকে গ্রহণ করতে হবে ।  ব্লেয়ার  বাজারকে আরও দক্ষ করার মধ্যে দিয়ে অন্তর্ভুক্তির রাজনীতির কথা বললেন । ১৯৯৫ সালে লেবার পার্টির দলিলের  ক্লজ ৪,  যাতে ঐতিহাসিকভাবে পার্টির উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানার অঙ্গিকার ছিল ,  তা সরিয়ে দেওয়া হল । ব্লেয়ারের সরকার থেচারের আমলের বেসরকারিকরণকে মেনে নেয় , প্রাইভেটের দিকে পাল্লা ভারী রেখে  পাবলিক- প্রাইভেট পার্টনার...

আরশোলা যুদ্ধ জিতেছে, যে ইকোনমিক গ্রোথ তাদের জন্ম দিয়েছিল, তা এখনও থামেনি

Image
শঙ্খশুভ্র বিশ্বাস  ১৫ মে, ভারতের প্রধান বিচারপতি একটি প্রতারণামূলক আইনি প্রমাণপত্র সংক্রান্ত আদালত অবমাননার রুটিন মামলা শুনতে গিয়ে দেশের বেকার যুবসমাজ নিয়ে একটি মন্তব্য করে বসলেন। তিনি বললেন, তারা আরশোলার মতো, ব্যবস্থার শরীরে বেঁচে থাকা পরজীবী। এমন মন্তব্য একজন ক্ষমতাবান মানুষই করতে পারেন, যিনি ধরে নেন ক্ষমতার শিখরে থাকায় কেউ তাঁদের ছুঁতে পারবেনা আর সাধারণ যুবদের কথায় কিছু আসে যায় না। অভিজিৎ দীপকে, এই অপমানকেই একটা নতুন নাম দিলেন, ককরোচ জনতা পার্টি। তিন দিনের মধ্যেই তার অনুগামী দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। জুলাইয়ের মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুগামীর সংখ্যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির চেয়েও বেশি হয়ে গেল। তাদের কোনও দফতর ছিল না, কোনও তহবিল ছিল না, একটা রসিকতা ছাড়া কোনও ইস্তেহারও ছিল না, একটা রসিকতা যা কিছুতেই ফুরোতে চাইছিল না। তারপর, ৪ জুন, নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট, যে পরীক্ষা ঠিক করে দেয় ভারতের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক কারা হবেন, তা আরও একবার প্রশ্নফাঁসের কবলে পড়ল। প্রায় বাইশ লক্ষ তরুণ-তরুণী বসেছিলেন এক লক্ষ ত্রিশ হাজার আসনের জন্য। এটা প্রথম নয়। গত সাত বছরে এটি সত...