Posts

Showing posts from August, 2026

কোন অমৃতের সন্ধানে এই উচ্ছেদ?

Image
অভিজ্ঞান চক্রবর্তী   সম্প্রতি আমরা দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে রেলের জমির নাম করে বস্তি উচ্ছেদ। আর রাস্তার হকারদের ক্ষেত্রে স্ট্রীট ভেন্ডিং অ্যাক্ট, ২০১৪-র দফারফা করেই চলছে এই উচ্ছেদ। সেই প্রসঙ্গে না গিয়ে বরং রেল হকার ও বস্তি উচ্ছেদের কারণ, পরিস্থিতি এবং একইসাথে রেলের গঠনগত বিষয়কে বোঝার চেষ্টা করি চলুন আমরা। বিশ্বমানের স্টেশন বানাতে গিয়ে চালানো এই হকার ও বস্তি উচ্ছেদ হল “অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম”-এর অংশ। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পকে ভারত সরকার দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল সারা দেশের ১,৩০০-এরও বেশি রেল স্টেশনকে আধুনিকীকরণ করা। এই প্রকল্পগুলো নিয়ে আসার পেছনে রেলের গঠনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে হবে। ভারতীয় রেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এটি জনপরিষেবা রূপেই পরিচালিত হয়েছে। লাভ ক্ষতির চেয়ে জাতীয় সংযোগ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান ছিল এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৯১ সালের উদারীকরণ পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে রেলের অর্থনৈতিক কাঠামো বদ...

ম্যানচেস্টারপন্থা কি ব্রিটেনের নয়া বামপন্থা?

Image
প্রিয়াংশু দে  ২০শে জুলাই ২০২৬, অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। লেবার পার্টির এই নয়া নেতা কি ওই দেশের বামপন্থার নয়া মুখ? এই বিশ্লেষণ করতে হলে ফিরে যেতে হবে লেবার পার্টির বামপন্থী শিবিরের ইতিহাসে।  ১৯৯০- এর শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মধ্যে ‘ ব্লেয়ারিজমের ’ উত্থান এমন একটা পরিস্থিতিতে হয়েছিল যখন টানা ৪ টি জাতীয় নির্বাচনে তারা হারের মুখ দেখছিল। সমাজতত্ত্ববিদ  অ্যান্থনি গিড্ডেন্স- এর ‘থার্ড ওয়ে’ তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে টোনি ব্লেয়ার বলেছিলেন যে বিশ্বায়নের যুগে পার্টিকে প্রথাগত রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের ধারণা থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ধারণাকে গ্রহণ করতে হবে ।  ব্লেয়ার  বাজারকে আরও দক্ষ করার মধ্যে দিয়ে অন্তর্ভুক্তির রাজনীতির কথা বললেন । ১৯৯৫ সালে লেবার পার্টির দলিলের  ক্লজ ৪,  যাতে ঐতিহাসিকভাবে পার্টির উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানার অঙ্গিকার ছিল ,  তা সরিয়ে দেওয়া হল । ব্লেয়ারের সরকার থেচারের আমলের বেসরকারিকরণকে মেনে নেয় , প্রাইভেটের দিকে পাল্লা ভারী রেখে  পাবলিক- প্রাইভেট পার্টনার...

আরশোলা যুদ্ধ জিতেছে, যে ইকোনমিক গ্রোথ তাদের জন্ম দিয়েছিল, তা এখনও থামেনি

Image
শঙ্খশুভ্র বিশ্বাস  ১৫ মে, ভারতের প্রধান বিচারপতি একটি প্রতারণামূলক আইনি প্রমাণপত্র সংক্রান্ত আদালত অবমাননার রুটিন মামলা শুনতে গিয়ে দেশের বেকার যুবসমাজ নিয়ে একটি মন্তব্য করে বসলেন। তিনি বললেন, তারা আরশোলার মতো, ব্যবস্থার শরীরে বেঁচে থাকা পরজীবী। এমন মন্তব্য একজন ক্ষমতাবান মানুষই করতে পারেন, যিনি ধরে নেন ক্ষমতার শিখরে থাকায় কেউ তাঁদের ছুঁতে পারবেনা আর সাধারণ যুবদের কথায় কিছু আসে যায় না। অভিজিৎ দীপকে, এই অপমানকেই একটা নতুন নাম দিলেন, ককরোচ জনতা পার্টি। তিন দিনের মধ্যেই তার অনুগামী দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। জুলাইয়ের মধ্যেই তার ইনস্টাগ্রাম অনুগামীর সংখ্যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির চেয়েও বেশি হয়ে গেল। তাদের কোনও দফতর ছিল না, কোনও তহবিল ছিল না, একটা রসিকতা ছাড়া কোনও ইস্তেহারও ছিল না, একটা রসিকতা যা কিছুতেই ফুরোতে চাইছিল না। তারপর, ৪ জুন, নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট, যে পরীক্ষা ঠিক করে দেয় ভারতের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক কারা হবেন, তা আরও একবার প্রশ্নফাঁসের কবলে পড়ল। প্রায় বাইশ লক্ষ তরুণ-তরুণী বসেছিলেন এক লক্ষ ত্রিশ হাজার আসনের জন্য। এটা প্রথম নয়। গত সাত বছরে এটি সত...