কোন অমৃতের সন্ধানে এই উচ্ছেদ?
অভিজ্ঞান চক্রবর্তী
সম্প্রতি আমরা দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে রেলের জমির নাম করে বস্তি উচ্ছেদ। আর রাস্তার হকারদের ক্ষেত্রে স্ট্রীট ভেন্ডিং অ্যাক্ট, ২০১৪-র দফারফা করেই চলছে এই উচ্ছেদ। সেই প্রসঙ্গে না গিয়ে বরং রেল হকার ও বস্তি উচ্ছেদের কারণ, পরিস্থিতি এবং একইসাথে রেলের গঠনগত বিষয়কে বোঝার চেষ্টা করি চলুন আমরা। বিশ্বমানের স্টেশন বানাতে গিয়ে চালানো এই হকার ও বস্তি উচ্ছেদ হল “অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম”-এর অংশ। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পকে ভারত সরকার দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল সারা দেশের ১,৩০০-এরও বেশি রেল স্টেশনকে আধুনিকীকরণ করা। এই প্রকল্পগুলো নিয়ে আসার পেছনে রেলের গঠনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে হবে।
ভারতীয় রেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে এটি জনপরিষেবা রূপেই পরিচালিত হয়েছে। লাভ ক্ষতির চেয়ে জাতীয় সংযোগ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান ছিল এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৯১ সালের উদারীকরণ পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে রেলের অর্থনৈতিক কাঠামো বদলাতে শুরু করে। বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এবং দেশীয় অর্থনীতির নির্ধারকদের একটি বড় অংশ মনে করে যে সরকারি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি মূলধন ও কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা আনলে দক্ষতা বাড়বে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রেলের মধ্যে ধীরে ধীরে একাধিক সংস্থা গড়ে ওঠে। জন্ম নেয় Rail Vikas Nigam Limited (RVNL), Indian Railway Finance Corporation (IRFC), Indian Railway Catering and Tourism Corporation (IRCTC), IRCON International। এই সংস্থাগুলি ভারতীয় রেলের মালিকানাধীন এবং ভারত সরকারের সর্বোচ্চ শেয়ারসম্পন্ন হলেও এগুলি কোম্পানি আইনের অধীনে চিহ্নিত কর্পোরেট সত্তা বহন করে।
এটুকু পড়ে মনে হতেই পারে যে এটা তো ভালো পদক্ষেপই, কিন্তু সমস্যা শুরু এখান থেকেই। এই সংস্থাগুলো PPP মডেল ব্যবহার করছে যেখানে প্রাইভেটের পাল্লা ভারী রাখা হচ্ছে। হাউসকিপিং বা ক্লিনিং স্টাফ থেকে শুরু করে লোকোমোটিভ বানানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, অমৃত ভারতের মতো প্রকল্পের অধীনে অত্যাধুনিক স্টেশন তৈরির কাজ “Design Build Finance Operator Transfer “ মডেলের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থাদের হাতে। ফলে কমছে রেলে গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি কর্মসংস্থান এবং একইসাথে চলছে কর্পোরেট স্বার্থের তুষ্টিকরণ। ২০১৮-১৯ সাল থেকে এই প্রত্যেকটি সংস্থা শেয়ার মার্কেটে (IRFC ২০২১ সালে) লিস্টিং করে এবং ২০২৩/২০২৪ সাল নাগাদ এই শেয়ারগুলোর দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এই ওঠার পিছনে একটা বড় কারণ ছিল ভারত সরকারের রেকর্ড বিনিয়োগ। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকেই ভারত সরকার রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা করে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ₹১.৪৮ লক্ষ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ₹২.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় আর এর পরেই রেলওয়ে বিভিন্ন প্রজেক্ট লঞ্চ করে। শেয়ার মার্কেটে এই সংস্থাগুলোর শেয়ারের দাম বিরাট আকারে বারতে থাকে এবং ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছয়। এই শেয়ারগুলোর মূল প্রমোটার ভারত সরকার হলেও ভ্যানগার্ড গ্রুপ, ব্ল্যাকরক ফান্ডস-এর মতো সংস্থারাও এতে টাকা লাগাতে শুরু করে Foreign Portfolio Investment-এর মাধ্যমে। একই সাথে HDFC এবং ICICI মিউচুয়াল ফান্ড এর মতো বহু সংস্থা এতে ইনভেস্ট করতে শুরু করে। সরকারের চড়া ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্সটিটিউশনাল ইনভেস্টদের ইনভেস্টমেন্ট দেখিয়ে শেয়ারের দাম চড়াভাবে বাড়ানো হয়, যা কতটা বাস্তবসম্মত আর কতটা ইনফ্লেটেড তা সময়ই উত্তর দিয়েছে। বাস্তবে রেলওয়ে কিছু বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন এনেছে বা স্টেশনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের করতে গিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে হকার উচ্ছেদ করে অন্য ভেন্ডর বসিয়েছে কিন্তু রেলের সার্বিকভাবে বাস্তব এবং অপারেশনাল উন্নয়ন হয়নি। ফলে বিগত ১২ বছরে প্রায় ৭২৩টা রেল দুর্ঘটনা হয়েছে, এমনকি IRCTC অন্য ভেন্ডারদের দিয়ে খাবার প্রস্তুত করলেও খাবারের মান বাড়েনি। আর সাম্প্রতিক সময়ে তথাকথিত শেয়ার মার্কেট গ্রোথের দড়িতে টান পড়েছে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। নীচে RVNL, IRFC, IRCON ও IRCTC-র সার্বিক শেয়ার প্রাইজ-এর নমুনা দেওয়া হল।
RVNL (তথ্যসূত্র - 12)
IRFC (তথ্যসূত্র - 13)
IRCTC (তথ্যসূত্র - 14)
IRCON (তথ্যসূত্র - 15)
আর এখান থেকেই বুঝতে হবে পশ্চিমবঙ্গে ১০২টা স্টেশনে (হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়গপুর সহ) অমৃত ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে স্টেশনগুলোকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে ৩,৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ইতিবৃত্ত। ২০২২ সালে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম শুধু প্রধান স্টেশনগুলোকেই (NSG 1 বা A1 ক্যাটাগরির স্টেশন) আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে চালু করা হলেও ২০২৪ সালে অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শেয়ারের দামে ব্যাপক পতন শুরু হওয়ার পরে যখন দ্বিতীয় পর্যায়ে এই স্কিম আসে, তখন B, C বা NSG 4, NSG 5 ক্যাটাগরির বা উপশহরীয় SG গ্রুপের স্টেশনগুলোকেও এতে যুক্ত করা হয়। এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদ করা হল মহারাষ্ট্রের ব্যান্দ্রায় গরীব নগরের কাছে, আসামের গোয়াহাটি, কামাখ্যা, লুমডিং, উত্তর লখিমপুরে, উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে এবং সাম্প্রতিক বাংলায় শিয়ালদহ এবং হাওড়ায়।
২০১৪ সালের স্ট্রিট ভেন্ডিং রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী পুনর্বাসন ব্যতীত হকার উচ্ছেদ বেআইনি হলেও রেলের জমিতে সেই আইন খাটে না তবে পুনর্বাসন ব্যতীত হকার উচ্ছেদ আদতে সংবিধানের ২১ নং ধারা অনুযায়ী জীবনের অধিকারকে লঙ্ঘ্ন করে। একইসাথে প্রশ্ন ওঠে, এই উচ্ছেদ কি আদৌ জনসাধারণের স্বার্থে। জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা হচ্ছে বলে যে উচ্ছেদ করা হল তা আসলে ভাঁওতা। একজন নিত্যযাত্রী জানেন বড় বড় কোম্পানির আউটলেট, শপিং মল-এর আউটলেট, রেস্তোরাঁ এবং IRCTC নিয়োজিত দোকানের ঠেলায় শিয়ালদহ নর্থ ও সাউথের মাঝের প্যাসেজকে ছোট করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উচ্ছেদের প্রশ্নে বারংবারই ভারতবর্ষে আর্টিকেল ২১কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। Olga Tellis vs Bombay Municipal Corporation 1985 - এই কেসে এক অভূতপূর্ব রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট বলে, “জীবিকার অধিকার, জীবনের অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষের ক্ষেত্রে বাঁচা মানে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচা"। ফলত সেইখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, রেলকর্তৃক এই হকার উচ্ছেদ কতটা মানবিক এবং ন্যায়সঙ্গত। এইখান থেকেই Jolly LLB সিনেমার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ মনে আসে, "কৌন হ্যায় ইয়েহ লোগ"? এনারা পশ্চিমবঙ্গে ইনফর্মাল সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত আমার আপনার মত সাধারণ মানুষ যারা পেটের দায়ে ট্রেনে ট্রেনে রানিং হকারের কাজ করেন, কেউ বা দীর্ঘদিনের সঞ্চিত পুঁজি রুলিং পার্টির দালাল মারফৎ স্টেশনে দোকান পেয়েছিলেন। এনারা ছুটে বেড়ান পেটের দায়। রেল এনাদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে কিন্তু সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে না। একইসাথে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিত্যযাত্রী, যারা এতদিন ২০ টাকার মধ্যে পরোটা-তরকারি ডিম খেয়ে নিজেদের ক্ষিদে ও পুষ্টির প্রয়োজন মেটাতে পারছিল, কিন্তু আজ তাদের ৭০ টাকা খরচ করেও ক্ষিদে মেটাতে পারছে না। রানিং হকারদের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছে ফাইনের খাঁড়া! ২০২৬ সালে Jan Vishwas (Amendment of Provisions) Act কার্যকর হওয়ার পর জরিমানা ও শাস্তির বিধানের পরিবর্তন হয়েছে। রেলগাড়ি বা রেলওয়ের যে কোনো স্থানে লাইসেন্স ছাড়া পণ্য বিক্রি করলে ২,০০০ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা না দিতে পারলে আদালতে তোলা হতে পারে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই হতে পারে। যারা ভাবছেন এই রানিং হকাররা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করলেই তো ঝামেলা মিটে যায়, তাদের রেলই উত্তর দিচ্ছে যে ব্যক্তিগতভাবে রেলের কাছে আবেদন করে লাইসেন্স পাওয়ার ব্যবস্থা নেই। অতীতে সংসদে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ট্রেনে অননুমোদিত হকারদের লাইসেন্স দেওয়ার কোনো নীতি নেই। সাধারণত IRCTC বা রেলের অনুমোদিত ক্যাটারিং/ভেন্ডিং লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে হয়। সেই প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের জন্য পরিচয়পত্র (বর্তমানে QR-কোড যুক্ত) এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন করিয়ে দেয়। ফলে রানিং হকারদের পরিচয়পত্র নিয়ে অপপ্রচার চলছে যে লটারি মারফৎ দোকান হারানো দোকানদাররা দোকান ফিরে পাবেন কিন্তু তা আদতে অলীক স্বপ্ন।
তথাকথিত স্টেশন আধুনিকীকরণের নামে ভারতীয় রেল যে ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’ বা সাধারণ বাণিজ্যিক ই-টেন্ডারিং নীতি চালু করেছে, তার খরচ কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পক্ষে বহন করা অসম্ভব। শিয়ালদহ, হাওড়া, আসানসোল বা খড়্গপুরের মত বড় বড় স্টেশনে একটি সাধারণ চায়ের দোকান, ক্যাটারিং স্টল বা ট্রলি চালানোর জন্য রেলের নির্ধারিত বার্ষিক রিজার্ভ প্রাইস বা লাইসেন্স ফি শুরুই হয় কয়েক লাখ টাকা থেকে, যা মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক বিডিংয়ের মাধ্যমে অনেক সময় বছরে ত্রিশ-চল্লিশ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকে। ১৮% জিএসটি, সিকিউরিটি ডিপোজিট ও বিদ্যুতের খরচ সমেত প্রতি মাসে রেলকে দিতে হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ১.৫ লাখ টাকা বা তারও বেশি। অন্যদিকে মফস্বল বা উপশহরীয় ছোট স্টেশনগুলোতেও ই-অকশনের মাধ্যমে বার্ষিক লাইসেন্স ফি দাঁড়ায় ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকার কাছাকাছি, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। যেখানে একজন প্রান্তিক বা রানিং হকারের সারাদিনের কেনাবেচায় সামান্য আয় হয়, সেখানে ছোট-বড় কোনো স্টেশনেই এই বিশাল অঙ্কের মান্থলি রেন্ট বা সিকিউরিটি ডিপোজিট দিয়ে লাইসেন্স নেওয়া তাদের সাধ্যের বাইরে। ফলে নীতিগতভাবেই সাধারণ হকারদের এই আইনি ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দিয়ে স্টেশনের কমার্শিয়াল স্পেসগুলো কেবল বড় কর্পোরেট ঠিকাদারদের দখলে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই পুরো প্রকল্প এবং শেয়ার মার্কেটের কাঠামোর দিকে নজর দিলে আরও একটি বিপজ্জনক চক্র প্রকাশ পায়। Rail Vikas Nigam Limited (RVNL) যে সমস্ত বড় বড় পরিকাঠামোগত প্রজেক্ট বা স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ করছে, সেগুলির সিংহভাগ ফান্ডিং বা মূলধন জোগাচ্ছে Indian Railway Finance Corporation (IRFC)। অর্থাৎ, IRFC বাজার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (যেমন FPI বা মিউচুয়াল ফান্ড) থেকে টাকা তুলে তা RVNL বা রেলের বিভিন্ন সংস্থাকে ঋণ বা প্রজেক্ট ফান্ড হিসেবে দিচ্ছে। সেই টাকায় RVNL কাজ পাচ্ছে এবং তাদের ব্যালেন্স শিট ও রেভিনিউ বুকিং কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে। আর এই রেভিনিউ বৃদ্ধির গল্প দেখিয়ে শেয়ার বাজারে RVNL এবং IRFC-র শেয়ারের দাম হু-হু করে বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। সহজ কথায়, জনতার ট্যাক্সের টাকা রেলের সংস্থাগুলোতে চক্রাকারে ঘুরিয়ে এবং ঋণের ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিম গ্রোথ তৈরি করে শেয়ারের দাম ধরে রাখার এক খেলা চলছে। এই ইনফ্লেটেড বা ফোলা শেয়ার মূল্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, যার আসল খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং উচ্ছেদ হওয়া হকারদের।
সবশেষে বলা যায়, ভারতীয় রেল আজ আর কোনো ‘জনপরিষেবা’ বা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হতে চাইছে না। সে এখন বিশ্ব শেয়ার বাজারের ওঠানামা, ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টর (FPI) এবং বড় বড় ফান্ড হাউসের মুনাফার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ছে। বিশ্ববাজারের মন্দা বা শেয়ারের পতন সামাল দিতে এবং ইনভেস্টরদের রিটার্ন সুনিশ্চিত করতে গিয়েই ‘অমৃত ভারত’-এর মত চকমকে প্রকল্প আনতে হচ্ছে, যার শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা যখন জনস্বার্থের বদলে কর্পোরেট ইনভেস্টরদের স্বার্থ পূরণে পরিচালিত হয়, তখন তার পরিষেবা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা দুটোই চরমভাবে কম্প্রোমাইজড হতে বাধ্য। অথচ বিশ্বজুড়ে আধুনিকীকরণের যে মডেল আমরা দেখি, সেখানে মানুষ বা জীবিকাকে ছেঁটে ফেলা হয় না। সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককের মতো আধুনিক এশীয় শহরগুলির দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানকার আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রেল ও মেট্রো স্টেশন বা তার সংলগ্ন অঞ্চলগুলো কোনোভাবেই ‘হকার-শূন্য’ বা প্রান্তিক ব্যবসায়ীহীন নয়। সেখানে স্ট্রিট ভেন্ডর এবং হকারদের আধুনিক নগর পরিকল্পনার ভেতরেই সুনির্দিষ্ট ‘ভেন্ডিং জোন’-এ পরিচ্ছন্ন পরিকাঠামো এবং আইনি স্বীকৃতি মারফৎ পুনর্বাসিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আধুনিক হওয়ার সাথে সাথে তারা হকারদের জীবিকার সংস্থান নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে উন্নয়ন মানেই হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করা, জীবিকা কেড়ে নেওয়া এবং স্থানটিকে কেবল উচ্চবিত্ত ও কর্পোরেট পুঁজির জন্য উন্মুক্ত করা। সরকার ও গণপরিবহণ ব্যবস্থা যে ‘উন্নয়ন’-এর স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে এবং প্রান্তিক মানুষকে উচ্ছেদ করে কার স্বার্থ পূরণ করছে তা বলাই বাহুল্য।
তথ্যসূত্র
1. Establishment & corporate structure of public enterprises of rail
https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2025/apr/doc202541530501.pdf
2. Union Budget 2018–19 – Indian Railways Capital Expenditure
https://www.pib.gov.in/Pressreleaseshare.aspx?PRID=1518670®=48&lang=2
3. The Hindu -Budget 2023; Highest-ever capital outlay of ₹2.4 lakh crore for Railways
4. IRCTC, RVNL, IRCON, RITES
https://indianrailways.gov.in/railwayboard/index.jsp?lang=0
5. Train and station hygiene maintenance through contractual workers
https://pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1848485
6. MELPL
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1625158®=48&lang=2
7. Design, Build, Finance, Operate, Transfer (DBFOT)
https://www.pib.gov.in/Pressreleaseshare.aspx?PRID=1658187®=48&lang=2
8. Group C & D works by contractual staffs
https://www.leftviews.in/movements-84561/news-23722/railways-workforce-cut-2-percent-india
9. CAG Rail Audit Report
https://cag.gov.in/en/audit-report/details/3040
10. Amrit Bharat Station Scheme in West Bengal
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2247730&lang=2&=48&utm®=48
11. Olga Tellis & Ors. v. Bombay Municipal Corporation & Ors., (1985) 3 SCC 545, Supreme Court of India (Right to Livelihood held to be an integral facet of the Right to Life under Article 21)
https://indiankanoon.org/docfragment/709776/?formInput=live-in&utm
12. RVNL share graph by Grow
https://groww.in/stocks/rail-vikas-nigam-ltd
13. IRFC share graph by Grow
https://groww.in/stocks/indian-railway-finance-corporation-ltd
14. IRCTC share graph by Grow
https://groww.in/stocks/indian-railway-catering-tourism-corpn-ltd
15. IRCON share graph by Grow
https://groww.in/stocks/ircon-international-ltd
16.Indian Railways new penalty rules 2026: Rs 2,000 fine for smoking, hawking and begging on trains
17. Jan Viswas (Amendment) Bill on fine of licence less hawkers
https://prsindia.org/files/bills_acts/bills_parliament/2026/Jan_Vishwas_Bill_2026_Text.pdf
18. Railway Minster-of-State Manoj Sinha's reply to Shashi Tharoor's query on whether the government is thinking about providing license to unauthorized hawkers
https://sansad.in/getFile/loksabhaquestions/annex/7/AU949.pdf?source=pqals
19. List of rail accidents
https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_railway_accidents_and_incidents_in_India
20. QR Code-Enabled Identity Cards and Digitally Traceable Food Packets in Indian Railways to Eliminate Unauthorised Vending and Ensure Verified Onboard Catering Services for Rail Passengers
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2242392&lang=2&=3&utm®=48
21. Railway shop fees breakdown
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244863&=48&lang=2®=48
https://railadda.com/one-station-one-product-list-how-to-apply/
22. RVNL Secures ₹371 Crore Project While IRFC OFS Hits Market: What Investors Should Know.
23. What Mumbai could learn from Singapore’s street hawker policies
https://scroll.in/article/675489/what-mumbai-could-learn-from-singapores-street-hawker-policies
24. First hawker centre in central Bangkok a success

Comments
Post a Comment