ম্যানচেস্টারপন্থা কি ব্রিটেনের নয়া বামপন্থা?
প্রিয়াংশু দে
২০শে জুলাই ২০২৬, অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। লেবার পার্টির এই নয়া নেতা কি ওই দেশের বামপন্থার নয়া মুখ? এই বিশ্লেষণ করতে হলে ফিরে যেতে হবে লেবার পার্টির বামপন্থী শিবিরের ইতিহাসে।
১৯৯০-এর শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মধ্যে
‘ব্লেয়ারিজমের’ উত্থান এমন একটা পরিস্থিতিতে হয়েছিল যখন টানা ৪টি জাতীয় নির্বাচনে তারা হারের মুখ দেখছিল।সমাজতত্ত্ববিদ অ্যান্থনি গিড্ডেন্স-এর ‘থার্ড ওয়ে’ তত্ত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে টোনি ব্লেয়ার বলেছিলেন যে বিশ্বায়নের যুগে পার্টিকে প্রথাগত রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের ধারণা থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ধারণাকে গ্রহণ করতে হবে। ব্লেয়ার বাজারকে আরও দক্ষ করার মধ্যে দিয়ে অন্তর্ভুক্তির রাজনীতির কথা বললেন। ১৯৯৫ সালে লেবার পার্টির দলিলের ক্লজ ৪, যাতে ঐতিহাসিকভাবে পার্টির উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানার অঙ্গিকার ছিল, তা সরিয়ে দেওয়া হল। ব্লেয়ারের সরকার থেচারের আমলের বেসরকারিকরণকে মেনে নেয়, প্রাইভেটের দিকে পাল্লা ভারী রেখে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ও প্রাইভেট ফিনান্স উদ্যাগের প্রসার ঘটায়, ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডকে কার্যক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দান করে আর সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পথেই হাঁটে। যদিও ২০০১-এর পর স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি খরচ বারিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু তার বিতরণ বাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ব্লেয়ারের সমর্থকরা যুক্তি দেয় যে ব্লেয়ার অর্থনৈতিক বিকাশের পক্ষে থেকে যুক্তরাজ্যকে আধুনিকীকরণের পথে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তার নিন্দুকেরা বরাবরই বলে এসেছে যে তিনি লেবার পার্টিকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির দিকে নিয়ে গেছেন। যেখানে থেচার আমোলের নয়াউদারবাদী অর্থনীতির বিরোধীতা করার কথা ছিল, সেখানে ওই অর্থনীতিই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পক্ষে থাকা ব্লেয়ারের রাজনীতির সবচেয়ে নিন্দনীয় পদক্ষেপ আর এর ফলে পার্টির মধ্যেকার অনেকেই ব্লেয়ারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে।
এবার আসা যাক যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিকতম প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টার্মার প্রসঙ্গে। বেশিরভাগ বাম বুদ্ধিজীবীই তাকে ব্লেয়ারাইট ঘরানার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখেন। ২০২০ সালে পার্টির প্রধান হওয়ার পর থেকেই স্টার্মার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপ গড়ে তোলার ওপর জোড় দেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন গ্রেট ব্রিটিশ এনার্জি-র, মাধ্যমে লগ্নীতে রাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের পক্ষে ছিলেন। বৈদেশিক নীতিতে স্টার্মার বরাবরই ন্যাটো, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ যুক্তরাজ্যের চিরাচরিত সঙ্গীদের সমর্থনের পক্ষে থেকে এসেছেন। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইনের ইস্যুতে তিনি একচেটিয়াভাবে, কখনও চতুরতার সাথে পরোক্ষভাবে আবার কখনও প্রত্যক্ষভাবেই ইজরায়েলকে সমর্থন করেন। কিন্তু স্টার্মার ও ব্লেয়ারের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও রয়েছে। স্টার্মার শক্তিশালী শিল্পনীতিকে সমর্থন করেন। তিনি আরও উন্নত শ্রমিক অধিকারের কথা বলেছিলেন। তাই তার সমর্থকেরা তাকে ব্লেয়ারাইট না বলে বরং বাস্তববাদী বলে। স্টার্মার ব্লেয়ারাইট ঘরানারই ধারাবাহিকতা নাকি সেই ঘরানার থেকে বিচ্যুত এক নেতা, এই নিয়ে বিতর্কের জায়গা রয়েছে।
লেবার পার্টিকে নিয়ে আলোচনা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ইউলসনের কথা বাদ দিয়ে করা সম্ভব নয়। ইউলসনের প্রথম সরকারকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম সংস্কারবাদী সরকার ধরা হয়। তিনি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্পে আধুনিকীকরণ আর বিজ্ঞান খাতে খরচ বারিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আধুনিক করতে চেয়েছিলেন। তার “ওয়াইট হিট অফ রেভোল্যুশান”-এর কল্পনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে তিনি বিশ্বাস করতেন যে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ শিল্পের রূপান্তর সম্ভব। তার সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক আর বিদ্যালয় নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার ঘটায়। অর্থনৈতিক অসমতা দূর করতে কম সমৃদ্ধ অঞ্চলে লগ্নি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেন তিনি। তার আমলে অনেক সামাজিক সংস্কারও হয় - গর্ভপাতের বৈধতা, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সমকামিতার বৈধকরণ, বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের সংস্কার, মৃত্যুদন্ড বাতিল করা এর মধ্যে অন্যতম। তার আমলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রসার ঘটে কিন্তু কনজারভেটিভদের ছেড়ে যাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে তার আকাঙ্ক্ষিত প্রকল্প অসমাপ্ত থেকে যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দীর্ঘ শিল্প সংঘাতের মধ্যেও উৎপাদনের উন্নতি সম্ভব। রাষ্ট্রচালিত পরিবর্তন, পরিকল্পনা, সংস্কার ও কল্যাণকর প্রকল্পের প্রসারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অনেক ঐতিহাসিকই তাকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বামমনস্ক প্রধানমন্ত্রীও বলে থাকেন। ১৯৬৪ সালে পাউন্ড-স্টার্লিং-এর মূল্য হ্রাসকে কেন্দ্র করে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড-এর সাথে তার ঝামেলা শুরু হয়। ব্যাংক বারংবার সুদের হারে চড়া বৃদ্ধির কথা বললেও সরকার কর্মসংস্থানের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হয় না। শেষ পর্যন্ত তাকে পাউন্ডের মূল্য ১৪.৩% হ্রাস করতে হয়। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড-এর ডিরেক্টর সেসিল কিং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সাথে যোগসাজশ করে ইউলসনের সরকারকে ক্যু-এর মাধ্যমে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন! মুদ্রার অস্থিরতা, বাহ্যিক চাপ আর লেনদেনের ভারসাম্যের সংকটের ফলে তাকে সরকারি খরচ অনেকটাই কমিয়ে দিতে হয় আর অনেক র্যাডিকাল সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পনা খারিজ করতে হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও সৈন্য পাঠাননি। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে তিনি আদতে ওয়াশিংটনের থেকে স্বাধীনতা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন কিন্তু আভ্যন্তরীন বিরোধীদের চাপে তাকে সম্পর্ক অটুট রাখতে হয়। আবার অনেকে মনে করেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছের সঙ্গীই ছিলেন। আদতে তাকে পুরোপুরি ভিয়েতনাম সমর্থক বা যুদ্ধ বিরোধী বলতে পারা না গেলেও, এটুকু পরিষ্কার যে তিনি বৈদেশিক নীতিতে বাকি প্রধানমন্ত্রীদের থেকে অনেক বেশি বাস্তববাদী ছিলেন।
যদি আমরা লেবার পার্টির অভ্যন্তরের ব্লেয়ার বিরোধী মধ্য-বাম প্রবণতার কথায় আসি, তাহলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও এড মিলিব্যান্ডের কথা সবার আগে বলতে হয়। দুজনেই সরকারি সেবার বাজারীকরণের বিরোধিতা করে সংসদীয় গণতন্ত্র আর মিশ্র অর্থনীতির সমর্থন করে এসেছেন। এড মিলিব্যান্ডের ‘ওয়ান নেশান লেবার’ বৈষম্যদূরীকরণ, শিল্প নীতিকে শক্তিশালী করে তোলা, আরও জোরালো শ্রমিক অধিকার আর জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুর ওপর জোড় দেওয়ার কথা বলার সাথে সাথে পুঁজিবাদকে সংস্কারের করার কথা বলেছেন। তিনি সরাসরি বিভিন্ন ক্ষেত্রের জাতীয়করণের কথা না বললেও রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের গুরুত্বের কথা বলেছেন। আর বার্নহামের রাজনীতির সবচেয়ে বড় হলমার্ক হল সরকারি সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব, আঞ্চলিক বৈষম্যদূরীকরণ, সাশ্রয়ী আবাসন নীতি, শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রশাসন, সরকারি পরিবহন, বিকেন্দ্রীকরণ ও ট্রেড ইউনিয়নদের সঙ্গে মিলে কাজ করা। আদর্শগত শুদ্ধির পেছনে না দৌড়ে তিনি আঞ্চলিক প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারিক উন্নতির দিকে বেশি নজর দেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টার কমবাইন্ড অথোরিটিতে তিনি ব্লেয়ারাইটদের জায়গা দিয়েছিলেন। কিন্তু যদি শুধু এই থেকেই ধরে নিই যে তিনি ব্লেয়ারাইট, তাহলে সেটা অতিসরলীকরণ হয়ে যাবে। দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে গেলে বিভিন্ন গোষ্ঠির দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসকদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে, এটাই ছিল তার অবস্থান।
বার্নহাম ম্যানচেস্টার নগরের মেয়র থাকাকালীন ‘ম্যানচেস্টারপন্থা’ শব্দটি তার সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে পড়ে, যা একটি বাস্তববাদী, বিকেন্দ্রীভূত, মধ্য-বাম রাজনৈতিক মতধারা উঠে আসে। তার আবাসন নীতি শুধু সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও আবাসন পরিকল্পনার সংস্কারের মিশেলই নয়, এখানে আবাসন নীতির ওপর আঞ্চলিক কর্তৃত্বের গুরুত্বও আছে। ‘আ বেড এভ্রি নাইট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বৃহত্তর ম্যানচেস্টার অঞ্চলে গৃহহীনদের জরুরী আবাসন দেওয়া সম্ভব হয়। তার সবচেয়ে বড় সফলতা হল সরকারি পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার। লন্ডনের পর ম্যানচেস্টার তার আমলে প্রথম নগর হয়ে ওঠে যেখানে বাস ফ্র্যাঞ্চাইসিং ফিরিয়ে এনে, ভাড়া ও পরিষেবার মান নির্ধারনের ক্ষমতা বেসরকারি সংস্থাদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং চালু করেন ও ভ্রমণ পরিকাঠামোর প্রসার ঘটান। সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি সার্বিক জাতীয়করণের বদলে পৌর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবামূলক সংস্থাগুলির সংযোগ ঘটান, যার উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক স্তরে নীতি নির্ধারণ আর এজেন্সিদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করে পরিষেবার উন্নতি করা। এছাড়া তিনি উন্নততর উৎপাদন, উদ্ভাবন, দক্ষতা আর আঞ্চলিক উৎপাদন বৃদ্ধির সমর্থক। তিনি বহুবার বলেছেন যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি রাজধানী লন্ডন কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে আর তাই জাতীয় বিকাশে সমতা ফেরাতে প্রয়োজন বৃহৎ বিকেন্দ্রীকরণ। বার্নহাম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক মালিকশ্রেণী আর ট্রেড ইউনিউনদের মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে সফল হয়েছেন। তিনি সবুজ পরিবহণ আর দীর্ঘমেয়াদী নগরোন্নয়নের পক্ষে থাকলেও এই বিষয়ে তার মতামত পার্টির র্যাডিকাল অংশের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বৈদেশিক নীতিতে তিনি পার্টির মেইনস্ট্রিম মতের কাছাকাছি থেকেও গাজায় বিভিন্ন মানবিক উদ্যাগের সমর্থনে থেকেছেন। কিন্তু রুশ-ইউক্রেন সংঘর্ষে ইউক্রেনকে সমর্থন করেছেন। আবার যুক্তরাজ্যের ন্যাটোর প্রতি দায়দায়িত্বেরও সমর্থক তিনি। ব্রেক্সিট-কে একটি গণতান্ত্রিক ফলাফল হিসেবে দেখলেও বাণিজ্য, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের পক্ষে তিনি। নিন্দুকেরা তাকে প্রবল ইউরোকেন্দ্রিক বলে থাকে। অবশ্য ব্রিটেনের লেবার প্রধানমন্ত্রীদের প্রায় সকলকেই দেশের অভ্যন্তরে বাম আর দেশের বাইরে মোটের ওপর নরম সাম্রাজ্যবাদী বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উইলসন এবং প্রাক্তন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্বিনের তুলনায় অ্যান্ডি অনেকটাই মধ্যপন্থী এবং তিনি বরাবরই দলের মধ্যপন্থী অংশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
এবার বার্নহামকে বিশ্বের অন্যান্য মধ্য-বাম থেকে বাম স্পেক্ট্রামের নেতাদের সাথে তুলনা করা যাক। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মতো তিনিও শক্তিশালী শ্রম আইন, সবুজ শিল্প নীতি আর জনকল্যাণকর প্রোজেক্ট প্রসারের পক্ষে। আবার ফ্রান্সের জঁ-ল্যুক মেলঁশোঁর চেয়ে বার্নহাম অনেক বেশি মধ্যপন্থী। মেলঁশোঁ ব্যাপক জাতীয়করণ,
সম্পদ পুনর্বন্টন, নতুন সংবিধান রচনা ও নয়াউদারবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষে বিশ্বাসী।আর বার্নহাম বিকেন্দ্রীকরণ,
মিশ্র অর্থনীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারে বিশ্বাস করেন। আবার মধ্য-বাম অক্ষে জোহরান মামদানি আর বার্নহাম অনেক কাছাকাছি। নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানি খাজনা নিয়ন্ত্রণ তথা সম্প্রসারিত সরকারি আবাসন, ব্যাপক জাতীয়করণ, সম্পত্তি কর এবং পুনর্বন্টনের পক্ষে। আর বার্নহাম আঞ্চলিক প্রশাসন,
বেসরকারি লগ্নির সাথে সুসম্পর্ক আর সরকারি সেবার বৃদ্ধিরপক্ষে।
মোটের ওপর, বার্নহামের রাজনৈতিক কৌশল হল বৃহৎ জোট, দক্ষ প্রশাসন এবং মতাদর্শগত মেরুকরণের চেয়ে ব্যবহারিক উন্নতিতে গুরুত্ব প্রদান। এটা পরিষ্কার যে তিনি ব্লেয়ারাইটদের তুলনায় অনেক বেশি হস্তক্ষেপবাদী।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের শ্রমজীবী মানুষের উন্নতিকল্পে কি করবেন, সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাবে,
তথ্যসূত্র
১। Starmer got Labour off to bad start on Gaza, Lammy says; Joshua Nevett; BBC
২। Harold Wilson's 'white heat of technology' speech 50 years on; Matthew Francis; The Guardian
৩। Burnham positions himself as the reformed Blairite – but will that work in Makerfield?; David Maddox; The Independent
৪। Andy Burnham promised to change Greater Manchester.
Almost ten years on, how did he do?;Philip Brown; The Conversation
৫। What we're doing to help homeless people: A Bed Every Night Scheme; Manchester City Council

Comments
Post a Comment