গাড়িতে E20-র কি প্রভাব পড়ছে? - একটি কথোপকথন
ডিলিজেন্ট-এর পক্ষে অনলাভ ভট্টাচার্যের সাথে এই কথোপকথনে অংশগ্রহণ করেছেন শুভাশিস মিত্র। তিনি শ্রীরামপুরের বাসিন্দা।
অনলাভ: আপনি তো বাইক চালান এবং বাইক ভালোবাসেন; E20 ব্যবহার করে আপনার বাইকের মাইলেজের উপর কি প্রভাব পড়ছে?
শুভাশিস মিত্র: আমি ২০২০-র জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বুলেট কিনি। Classic 350, গান মেটাল গ্রে, ডবল ডিস্ক। এখন আমার মোটামুটি ১ লাখ কিলোমিটার হয়ে গেছে। আমি নিয়মিত সার্ভিস করাই। ৫,০০০ কিলোমিটার হয়ে গেলে ইঞ্জিন অয়েল চেঞ্জ করি। কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি, বিগত ৭ কি ৮ মাস ধরে মাইলেজ প্রচণ্ড পরিমাণে ড্রপ করেছে। আগে মোটামুটি ৫০০ টাকা দিয়ে আমি দু’দিন গাড়ি চড়তে পারতাম কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। গাড়ির ইঞ্জিনের সাউন্ডটাও একটু চেঞ্জ হয়ে গেছে। হতে পারে যে অনেকদিন ইউজ করলে গাড়ির ইঞ্জিনের সাউন্ডটা চেঞ্জ হয়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে ইঞ্জিন অয়েলের সাথে এর যোগ রয়েছে। আমার BS6-এর প্রথম লটের গাড়ি। কেনার সময় আমার গাড়ির ইঞ্জিনে লেখা ছিল না যে সেটা E20 অ্যাপ্রুভড। এখন যে বুলেট কিংবা অন্যান্য গাড়ি লঞ্চ হচ্ছে, সেখানে ইঞ্জিনে E20 লেখা আছে এমনটা আমি দেখতে পেয়েছি সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে। একটা গাড়ির মোটামুটি রেজিস্ট্রি ভ্যালু থাকে ১৫ বছর অব্দি। ২০২০-২৬, মানে ৬ বছর হয়েছে মাত্র। তাহলে আমি কেন এই গাড়ি নিয়ে সাফার করব? আমার গাড়িটা কি ভুল করেছে?
অনলাভ: E20 তেল ছাড়া এক বছর আগেও যে বিশুদ্ধ তেল আপনারা ভরতেন, সেটা কি এখন পাওয়া যাচ্ছে?
শুভাশিস: না, পাচ্ছি না। আমি বরাবরই ইন্ডিয়ান অয়েল কিংবা নিউটাউনের আকাঙ্ক্ষা পেট্রোল পাম্প কিংবা কোম্পানি ওনড ডিলারের থেকে ভরাই। সবাই বলছে, ওদের এখন কেবল E20 তেলই আসছে।
অনলাভ: E20 ব্যবহার করে আপনার গাড়িটা আর কতদিন চলবে বলে আপনার মনে হয়?
শুভাশিস: এভাবে অনুমান করে কিছু বলা যায় না। কিন্তু আমার গাড়ির মাইলেজ ড্রপ হয়েছে। মাইলেজ ড্রপ হলে আর কতদিন চলবে আমি জানি না। তবে আমার চার চাকার গাড়ি আছে। টয়োটা রুমিয়ন জি ভ্যারিয়েন্ট। ২০২৪ সালে কেনা। তাতে কিন্তু পেট্রোল যেখানে নেওয়া হয়, সেখানে E20 লেখা আছে। কিন্তু তারপরেও মাইলেজ ড্রপ করছে। মানে, যেটায় লেখা ছিল না, সেখানে মাইলেজ কম পাচ্ছি, আর যেখানে লেখা আছে, সেখানেও মাইলেজ কম পাচ্ছি। নতুন গাড়ি। তাও এই অবস্থা।
অনলাভ: ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের স্পন্সর করছে আর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে ‘পহেলে দেশ, বাদ মে তেল’।
শুভাশিস: গভর্মেন্ট তো এক প্রকার বলেই দিয়েছে যে তুমি আমাকে দেখো, আমি তোমাকে দেখছি। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম বলছে যে E20-তে কোনরকম প্রবলেম নেই। এই কারণেই ওরা আজও টিকে আছে। যদি ওরা বলে দেয় যে E20-র জন্য গাড়ির মাইলেজ ড্রপ হচ্ছে, ইঞ্জিনের ক্ষতি করে দিচ্ছে, ওরা মার্কেটে টিকতে পারবে না। বিজেপি টিকতে দেবে না। বাইজুস কি করে ধ্বংস হয়ে গেল? সে বড় বড় ক্রিকেট খেলায় নিজের বিজ্ঞাপন দিত কিন্তু আল্টিমেটলি সার্ভিস দিত না। এই করতে করতে তার সব রেভিনিউ শেষ হয়ে গেল। এখন ইন্ডিয়ান অয়েল এবং অন্যান্য বড় বড় কোম্পানি তাই করছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা বিভিন্ন জায়গায় তারা বলছে যে E20-তে গাড়ির মাইলেজ ড্রপ হয় না। জাপানি কোম্পানির গাড়ি যারা ইউজ করে, তারা বলছে যে ড্রপ হচ্ছে। সবাই অভিযোগ করছে। সবাই ভুল? এটা পুরোপুরি একটা স্ক্যাম। লোকের অসুবিধা তৈরি করে কাউকে বেনিফিট দেওয়াটা কোন যুক্তিতে প্রমাণ করে না যে সকলের এতে ভালো হচ্ছে। আমরা কোটিপতি বাড়ির ছেলে নই। আমরা মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে। আমরা কষ্ট করে গাড়ি কিনেছি। সরকারের মতলবটা কি? খালি বিজেপির লোকজন, তাদের ছেলে-মেয়েরাই একমাত্র ভালো-মন্দ খেতে পারবে? আমাদের কোনো অধিকার নেই?গভর্মেন্ট E20-কে পুশ করছে কেন? যার নেওয়ার নেবে, যার ইচ্ছা নেই সে নেবে না। দুটো অপশন খোলা রাখুক। ডিজেলের মধ্যেও কিছু মেশানো হচ্ছে কিনা কে জানে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম যে যারা ডিজেল গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে যায়, তাদেরও মাইলেজ ড্রপ করেছে।


Comments
Post a Comment