পরীক্ষা দুর্নীতি ও দেশ জোড়া ছাত্র আন্দোলন: লড়াই কোন পথে?
অমিতদ্যুতি বন্দ্যোপাধ্যায়
সাম্প্রতিক কেলেংকারী
সম্প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে নানা কেলেংকারী নিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও যুব সমাজ। শুরু হয়েছিল NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস দিয়ে, ক্রমে সেটা SSC-র প্রশ্নপত্র ফাঁস, UGC-NET এর পরপর দুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, CBSE তে খাতা দেখার কেলেংকারী, JEE-তে ছাত্রদের তথ্য ফাঁসের খবর এবং হালে ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁস, এহেন পরপর ধাক্কায় রাস্তায় নামে শুরু করেছে দেশের ছাত্র-যুব। পরপর এতগুলো ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে আকস্মিক হলেও এমন একটি ধ্বস নামা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ধুঁকতে শুরু করে, বা বলা ভালো তাদের সেই অবস্থা তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য:- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে জায়গা করে দেওয়া। যে প্রক্রিয়া এতকাল ধিরে ধিরে চলে আসছিল সেটাই দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপির ফ্যাসিস্ট সরকার। ২০১৪ সাল থেকে দেশজুড়ে বন্ধ হয়েছে ৮৯ হাজারের বেশি সরকারি স্কুল, যার মধ্যে অধিকাংশ গোবলয়ে। বন্ধ হওয়ার মুখে আরও ১০-১১ লক্ষ স্কুল। মাঝে করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে অনেকের। প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়াও ধস নেমেছে উচ্চশিক্ষায়। গত ১০ বছরে ৮৯ বার NEET এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এবছরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর অন্তত ১২ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে আলে জানা যাচ্ছে। UGC-NET পরীক্ষা ২০২৪ এ বাতিল হওয়ার পর এবছর আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রের নানা সরকারি চাকরির দুর্নীতিতে প্রতিবছর শেষ হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ স্বপ্ন, পথে বসে যাচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারেও মন্দা, তার ওপর নয়া শিক্ষানীতির দ্বারা কেন্দ্রীয় সরকার মাঝ পথে পড়াশোনা বন্ধ করার "সুযোগ" দিয়ে কাজে লেগে পড়ার অজুহাত দিয়ে অজস্র ছাত্রদের ঠেলে দিচ্ছে সস্তা শ্রমিক হওয়ার দিকে।
এক ছাত্রের জার্নি
দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা সম্পর্কে আমরা সবাই কিছুটা হলেও খবর রাখি নিজেদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। আমাদের দেশের বাবা-মায়েদের বেশিরভাগেরই স্বপ্ন থাকে ছেলেমেয়েদের NEET বা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পাশ করিয়ে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার তৈরি করবে নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়েও। তেমনই এক ছাত্রের কিরকম অভিজ্ঞতা হয় এই পরীক্ষায় বসতে গেলে সেটা তাহলে একবার দেখা যাক:
প্রথমেই যেটা মনে রাখা দরকার যে দেশের একটা বড়ো অংশের ছেলে-মেয়ে স্কুলে ঢোকার সুযোগই পায় না, পেলেও সেসব স্কুলের যা পরিকাঠামো তাতে সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা বা নুন্যতম প্রাথমিক শিক্ষা পাওয়াটাও স্রেফ অলীক কল্পনা। অনেকেই স্কুলে যায় দুপুরে মিড ডে মিল খেতে পাবে সেই আশায়। সেই খাবারের গুনগত মান সমর্থকে যত কম বলা যায় তত ভালো। তাছাড়া তথাকথিত "নিচু" জাতের ছেলেমেয়েদের ওপর অকথ্য অত্যাচার তো আছেই। সুতরাং NEET বা জয়েন্ট পরীক্ষা দিতে পারা খুব অল্প সংখ্যক ছেলে-মেয়েই দরিদ্র বা অতি দরিদ্র পরিবার থেকে আসে। একটা বড়ো সংখ্যায় ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায় না অর্থনৈতিক এবং জাতিগত কারণে।
যাদের সামর্থ্য আছে, সে-সব বাড়িতে, ছেলেমেয়েদের ছোট থেকেই মাথায় চাপ দেওয়া শুরু হয় যে আমাদের দেশে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সুতরাং ছেলেবেলা থেকেই সমস্ত খেলাধুলা-আনন্দ বাদ দিয়ে শুরু হয় প্রস্তুতি। NEET বা জয়েন্টের মতো পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন আসে তাতে স্কুলের পড়া বা বোর্ডের সিলেবাস কোনো সাহায্য করে না, অর্থাৎ দেশের যেসব বেসরকারি স্কুলগুলো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নিয়ে ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা এতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর জন্য ছাত্রদের তৈরি করতে অপারগ। ফলে বাধ্য হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে অভিভাবকেরা ছেলেমেয়েদের ভর্তি করে নানা কোচিং সেন্টারে।
কাঁধে আসতে থাকে বাড়তি চাপ। স্কুলের সঙ্গে কোচিংয়ের পড়ার ধরনে মিল নেই, এদিকে দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে চালাতে হবে এই প্রতিযোগিতায় ভরপুর ব্যবস্থার মধ্যে। ফলতঃ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নিঃশেষিত হয়ে যায় ছাত্রটি। একটি পরীক্ষায় খারাপ হলেও তার মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়, নিজের প্রতি সংশয় জন্মায়। এটা হওয়াও স্বাভাবিক, কারণ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একটা অসুস্থ শিক্ষা-পরিবেশ, যেখানে তাকে একই সঙ্গে দু'রকম পড়াশোনা অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সামলাতে হয় একটি বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে, যেখানে তার কোন সহপাঠীই বন্ধু নয়, সকলেই প্রতিপক্ষ, ছোটখাটো ব্যর্থতারও কোনো জায়গা নেই। তাছাড়া আত্মীয়-স্বজনের টিটকিরি, মা-বাবারা আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, সবকিছু মিলিয়ে এই চাপ একটি বাচ্চার কাঁধে পাহাড়ের মতো ভারি হয়ে ওঠে। সে নিজের মনে কথা কোথাও বলতে পারে না, নিজের মা-বাবার কাছেও সে সান্ত্বনা পেতে যেতে পারে না কারণ সে জানে যে তাঁরা অনেক সময়ে নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে ছেলেমেয়ের পড়াশোনায় খরচ করছেন। অনেক বাবা-মা আবার এমনও আছে টিউশনে টাকা খরচা করার ব্যাপারটাকে ফাটকা বাজারে লগ্নি করার মতোও দেখে, যার মূল্য একদিন ছেলেমেয়ের ভালো চাকরি বা রোজগার থেকে তারা সুদে আসলে ফেরত পাবে। ছাত্রটির নিজেকে তখন জীবনে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করে। ধিরে ধিরে মনে বাসা বাঁধে অবসাদ।
স্কুলের বোর্ড পরীক্ষা সামলে, কোচিংয়ের বিষাক্ত প্রতিযোগিতা মধ্যে অনবরত টেস্ট পরীক্ষা দিতে দিতে ছাত্রটি এসে পৌঁছায় শেষ পরীক্ষার দিনে, যেখানে একটি দিনে সে সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারছে কি-না তার ওপরে গোটা ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ডাক্তারির ক্ষেত্রে আগে তাও AIIMS-GIPMER আলাদা পরীক্ষা ছিল, এখন সেটা শুধু NEETএ এসে ঠেকেছে। বেশিরভাগের ছাত্রদের মনেই নানা চিন্তা ঘোড়ে, আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, "সবকিছু ঠিকঠাক পারবো তো?" পরীক্ষা দিতে অনেক সময়েই তাকে অনেক দূর পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছতে হয়। সেখানে গিয়ে দেখতে হয় যে সেখানে তাদের সঙ্গে প্রায় জেলের কয়েদিদের মতো আচরণ করা হচ্ছে। মাথার চুল থেকে পায়ের জুতো পর্যন্ত কেমন হবে তার বিধান দেওয়া আছে নিয়ামক সংস্থাগুলোর তরফ থেকে। পারলে ছাত্রছাত্রীদের বিবস্ত্র করা হয় পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকানোর আগে। সেই কয়েদিদের মতো চেকিংয়েই অনেক সময় মাথা গুলিয়ে যায় পরীক্ষার্থীদের।
এভাবে বছর বছর স্কুল-কোচিংয়ে শারীরিক মানসিক চাপ সহ্য করে, গাদা গাদা টাকা খরচ করে, পরীক্ষা কেন্দ্রের হেনস্তা সহ্য করে যখন ছাত্রটি দেখে যে কিছু লোভী মানুষের জন্য, অপদার্থ ব্যবস্থার জন্য তার এতোদিনের সব পরিশ্রম মাটি, এবং আবার সবকিছু সহ্য করে তাকে আবার পরীক্ষা দিতে যেতে হবে, আবার ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, আবার মা-বাবাকে নিরাশ করার সম্ভাবনা, তখন সে বেছে নিতে বাধ্য হয় এক কঠোর অন্তিম পরিনতি।
অন্যান্য যেসব সরকারি চাকরির পরীক্ষা আছে, সেখানেও দূর-দূরান্ত থেকে পাড়ি দিয়ে অপদার্থ ভারতীয় রেলব্যবস্থার কারণে পশুর মতো গাদাগাদি করে, বহু কষ্ট সহ্য করে পরীক্ষা দিতে আসে পরীক্ষার্থীরা। অনেকেই দরিদ্র বাড়ির ছেলেমেয়ে, স্বপ্ন থাকে একটা সরকারি চাকরি পেলে তাদের পরিবার ভালো ভাবে বাঁচতে পারবে। তারপর পরীক্ষার সময়ে দেখা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে, অথবা পরীক্ষা নেওয়া হয়ে গেছে, হাজার হাজার শূন্যপদ, তবু বছরের পর বছর তার রেজাল্ট বেরচ্ছে না। ফলে কোনো উপায় না দেখে তারা সস্তা শ্রমিকে পরিনত হয়।
আমাদের এই অসুস্থ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভারত দুনিয়ায় ছাত্রদের আত্মহত্যার রাজধানী। এই নিয়োগ দূর্নীতির জন্য দেশের বেহাল দশা এবং হাজারে হাজারে বেকার যারা দিন গুনছে সস্তা মজুরে পরিনত হওয়ার।
লড়াই কোন দিকে?
NEET কেলেঙ্কারির থেকে শুরু করে CBSE, NET সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সর্ষের মধ্যেই ভুত। অতীতে আমরা ব্যাপম কেলেঙ্কারির কথাও শুনেছি। NEET কান্ডে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে NTA-র প্রতিনিধিরাই, CBSE জেনেশুনে খাতা দেখার দায়িত্ব দিয়েছে একটি ব্ল্যাকলিস্ট হওয়া সংস্থার ওপর। এতকিছুর মধ্যে আবার দেখা যাচ্ছে যে এইসব কান্ডের নাটের গুরুরা অনেকেই বিজেপির সদস্য বা তাদের ঘনিষ্ঠ, সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র-যুবর ক্ষোভ এসে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর।
কিছুদিন আগে ছাত্রদের ক্ষোভ নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল ইন্টারনেটে ব্যঙ্গ করে তৈরি হওয়া পেজ "ককরোচ জনতা পার্টি"। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন সারা দেশ থেকে ভালোই সাড়া পায়, কিন্তু তার থেকে শেষমেশ যা ফল পাওয়া যায় সেটা মোটেও আশানুরূপ নয়। ককরোচ জনতা পার্টি শুরু থেকে আন্দোলনকে অনশন জাতীয় নিস্ক্রিয় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। মৃত ছাত্রদের ক্ষতিপূরন দিয়ে লাশের দাম ধার্য করা, শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বদল না চেয়ে নয়াশিক্ষানীতি বাতিল না চেয়ে (সোনম ওয়াংচুক এককালে বরং এর প্রশংসা করেছে) স্রেফ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাওয়া, এই ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। এছাড়াও নিজেদের মঞ্চে নানা রাজ্যের বুর্জোয়া দলের নেতাদের এবং শিবসেনার মতো ফ্যাসিস্ট দলের নেতাদেরও তুলেছিল। এই প্রাদেশিক বুর্জোয়া দলগুলো নিজেরাও এই ধরনের শিক্ষা দূর্নীতি এবং ছাত্রদের ওপর রাস্ট্রীয় নিপীড়ন নামানোর শরিক, যেটা হালে ঝাড়খণ্ডে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া আন্দোলনরত ছাত্রদের একাংশ যখন বিপ্লবী স্লোগান তোলা শুরু করে এবং জনতা সেই স্লোগানের পাশে এসে দাঁড়ায়, তখন ককরোচ জনতা পার্টি সেই বিপ্লবী স্লোগান দিতে প্রকাশ্যে বাধাও দেয়। এদের এই ধান্ধাবাজি এবং সুবিধাবাদী কার্যকলাপের কারণে আন্দোলন শেষে লাশের দাম ধার্য হওয়া, এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের জায়গায় একইরকম আরেকজন (বা হয়তো আরও খারাপ) শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়া ছাড়া জনতা আর কিছুই পায় না। এছাড়া সোনম ওয়াংচুক এবং তার স্ত্রী আন্দলোনের আগে ও পরে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা দমন মূলক কাজের প্রশংসা করে গেছে।
এখানে এটাও লক্ষ্য করা দরকার, যে দিল্লির আন্দোলনে যেসব বাম দল অংশগ্রহণ করেছিল তারা ককরোচ জনতা পার্টির সুবিধাবাদী কার্যকলাপের বিরোধিতা করেনি, এবং আন্দোলন তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতেও ব্যর্থ হয়েছে।
দিল্লি ছাড়াও নানা রাজ্যে একই সময়ে আলাদা আলাদা করে আন্দোলন গড়ে ওঠে যন্তরমন্তরের দেখা দেখি। কিন্তু কোনো বিপ্লবী নেতৃত্ব না থাকায় সেই আন্দোলনও দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে না এবং দিল্লির আন্দোলনের সঙ্গেই গুটিয়ে যায়।
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিপর্যয় গোটা বিশ্বের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিপর্যয়ের একটা অংশ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঠিক করতে গেলে দেশের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে বিলোপ করতে হবে। কিন্তু ককরোচ জনতা পার্টির মতো সংগঠনগুলো মূল দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এবং শুধু সেইটুকু হওয়াতেই তারা আন্দোলন তুলে নেয়। অবশ্যই ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদে থাকার উপযুক্ত নয়, কিন্তু তার বদলে বিজেপি বা অন্য কোনো দলের লোক বসলেও পরিস্থিতি বদলাবে না। এমনকি ককরোচ জনতা পার্টির ধরনায় উঠে আসা দাবী যেখানে বলা হচ্ছে সোনম ওয়াংচুককে শিক্ষামন্ত্রী করতে হবে, সেটা করলেও খুব বেশি হলে শুরুতে কিছু সংশোধনমূলক কাজ ছাড়া কিছু হবে না, পরিস্থিতি থাকবে যে কে সেই। কংগ্রেস সহ অন্য বুর্জোয়া দলগুলো যারা ছাত্র আন্দোলন করছে, তারা নিজেরাও জনগণকে ভুলিয়ে দিতে চাইছে যে শিক্ষার বেহাল দশা হওয়ার পেছনে হাত তাদেরও আছে, কারণ দিনের শেষে তাদের কর্মসূচি ঠিক হয় পুঁজিবাদের স্বার্থে, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে নয়।
সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোর ব্যর্থতা থেকে এটা স্পষ্ট যে আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করে তুলতে গেলে তাতে চাই বিপ্লবী নেতৃত্ব। আমাদের সামনে লড়াই দীর্ঘ। সারা দেশ জুড়ে ছাত্র-যুব রাস্তায় নামছে, কিন্তু আন্দোলনের রাস যদি বুর্জোয়া আর লিবারেলদের হাতেই থাকে এবং আন্দোলন গান্ধীবাদী কায়দাতে সরকারের গালে চুমু খেয়ে চলে, তাহলে আন্দোলনগুলো দু-একটা পদত্যাগ আর ক্ষতিপূরণ ছাড়া আর কিছুই আদায় করে উঠতে পারবে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে চাইলে সমাজব্যবস্থার বদল ছাড়া রাস্তা নেই। ফলে ছাত্র-যুবর দাবীদাওয়ার সঙ্গে শ্রমিক-মেহনতি মানুষের দাবীদাওয়ার সঙ্গে জুড়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া মুক্তির আর কোনো রাস্তা নেই। আমরা তাই সকল ছাত্র-যুবদের প্রতি আহ্বান জানাই শ্রমিক-মেহনতির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমে নিজেদের অধিকার তারা যেন ছিনিয়ে নেয়।
মতামত ব্যক্তিগত


ভালো মূল্যায়ন
ReplyDelete