Posts

মগজ ধোলাই, যুক্তিবাদ, অন্তর্দৃষ্টি ও কিছু থট এক্সপেরিমেন্ট

Image
ঋদ্ধিমান বসু 'হীরক রাজার দেশে'-র সেই মগজ ধোলাই যন্ত্র আশা করি সবার মনে আছে। সেই মগজ ধোলাই-এর ঘরে বন্ধ করে একটা মন্ত্র, এক বা একাধিক জনের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হত। তারপর তারা সারাক্ষণ সেই মন্ত্রই আউড়ে যেত। তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা বা বোধবুদ্ধি আর কাজ করত না। তারা একধরনের জম্বিতে পরিনত হত। ব্যাপারটা গোটাটাই রূপক। এই ছবিটা ইন্দিরা গান্ধী কৃত ইমার্জেন্সির (১৯৭৬-১৯৭৭) একটা স্যাটায়ার। সেখানে মগজ ধোলাই-এর যন্ত্র হয়ত সরাসরিভাবে কোন বাস্তব জিনিসের রূপক নয়। তবে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে এমন একটা জিনিস আছে যাকে সহজেই এই মগজ ধোলাই যন্ত্রের রূপক হিসেবে ভাবা যেতে পারে, আর তা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সেটা আর কিছুই নয়, মেনস্ট্রিম। মেন্সট্রিম বলতে এখানে শুধুই মিডিয়ার কথাই বলছিনা। প্রিন্ট ও ভিস্যুয়াল সংবাদমাধ্যম ছাড়াও, টেলিভিশন, সিনেমা, পত্রপত্রিকা, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি সবেতেই নানান ব্যাপারে প্রোপাগাণ্ডা চলে, আমাদের সামনে একটা ন্যারেটিভ পেশ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বেশিরভাগ প্রভাবশালী ব্যক্তিও (ইন্টেলেকচুয়াল ও ইনফ্লুএন্সার) তাকেই সমর্থন করেন। তবে এই মেনস্ট্রিম ন্যারেট...

মুম্বাই শহর: শ্রমিকের লড়াই থেকে এনকাউন্টার

Image
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়   মুম্বাই, পুরোনো নাম বোম্বাই বা বোম্বে, যা ছিল একটি শিল্পোন্নত শহর, যেখানে শ্রমিকদের লড়াই একসময় ভারতের একমাত্র ব্যারিকেডের লড়াই সৃষ্টি করেছিল, আজ তা চলে গেছে পরিষেবার আধিপত্যে। শ্রম আইনের উপর নেমে এসেছে ক্রমাগত আক্রমণ, শ্রমিকদের সংগঠিত করার অধিকার, শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্বারা  'নির্দিষ্ট-মেয়াদী কর্মসংস্থান' গ্রহণ করা 'হায়ার অ্যান্ড ফায়ার' নিয়মাবলী শহরটিকে মজদুরদের জন্য একটি কুৎসিত অভিজ্ঞতার নগরীতে পরিণত করেছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টগুলি অদৃশ্য হয়েছে, যার ফলে যাতায়াতের সমস্যা এবং মুম্বাইয়ের অস্বাভাবিক আবাসন পরিস্থিতি (নিশ্চিতভাবে যা বড় ডেভেলপার বা প্রোমোটারদের রাজত্বের চিহ্ন), ক্রমাগত বেঁচে থাকার লড়াই ও অন্যান্য সমস্ত কাজকে বিপর্যস্ত  করেছে। এই শহরে একদিন (১৯০৮) স্বাধীনচেতা মিল শ্রমিকরা লোকমান্য তিলকের রাষ্ট্রদ্রোহের জন্য ছয় বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে ছয় দিনের জন্য ধর্মঘট চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক চেতনা দেখিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন ঔপনিবেশিক পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান।  ১৮৫২ সালের আগস্টে, বোম্বে প্রেসিডেন্সির প্রথম রাজ...

নতুন সংসদ ভবন ও আসন্ন ডিলিমিটেশান

Image
রক্তিম ঘোষ [অপ্রচলিত, সংখ্যা ৩, বর্ষ ১, এপ্রিল-জুন ২০২৩-এ প্রকাশিত "নতুন সংসদ রহস্য ও কুস্তির প্যাঁচ"-এর নির্বাচিত অংশ; অপ্রচলিত পত্রিকার অনুমতি নিয়ে পুনঃপ্রকাশিত; বর্তমান শিরোনাম নির্বাচিত অংশের নিরিখে নতুনভাবে দেওয়া হল।] ..."কেন নতুন সংসদ ভবন?           কারণ ২০২৬ সাল হল ডিলিমিটেশনের বছর। মানে ২০২৬ সালের পরে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যা হিসাব করে সেই অনুপাত অনুসারে কোন রাজ্যে লোকসভায় কটা করে সিট থাকবে সেটা নির্ধারণ করা হবে। অবশ্য সেটা করতে করতে ২০৩১ হবে। কারণ ২০৩১ অর্থাৎ ২০২৬-এর পর প্রথম জনগণনা হবার পর সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হবে। কিন্তু তাতে মোদীর মনে লাড্ডু ফোটার কারণ কী? কারণ মহিলা প্রতি সন্তান উৎপাদনের হারে এগিয়ে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সহ অন্যান্য হিন্দিভাষী রাজ্য। এই অভিযোগ আরএসএস এবং ওদের সব শাখা সংগঠন এবং বিজেপি ধারাবাহিক ভাবে তুলে চলেছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ওরা প্রচুর বাচ্চা পয়দা করে। জনসংখ্যা ওদের প্রচুর বাড়ছে। ওদের রাজনীতির ভিত্তি মুসলমান বিদ্বেষ তাই মুসলমানদেরই টার্গেট করে ওরা। যদিও এসব দাবির কোনও ভিত্তি নেই তাও, ওরা প্রচার করে যে মুসলমানর...

শাসক ও শাসিতের রাজনীতিঃ পরিপ্রেক্ষিত চলমান ডি এ আন্দোলন

Image
বহ্নিহোত্রী হাজরা   প্রথম প্রকাশ: অপ্রচলিত, সংখ্যা ৩, বর্ষ ১, এপ্রিল-জুন ২০২৩ (অপ্রচলিত পত্রিকার অনুমতি নিয়ে পুনঃপ্রকাশিত) বিগত ৬ মে কোলকাতার হাজরা ক্রসিং কার্যত সরকারি কর্মচারীদের দখলে। চারদিকে শুধু কালো মাথা- এলাকায় ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। বহুদিন পর সরকারি কর্মচারীদের এভাবে পথে নামতে দেখল বাংলার মানুষ। আন্দোলন পেরোলো ১০০ দিন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব। কেন্দ্রের বেতন স্কেলের সঙ্গে সমতা রেখে ডিএ বাড়ানোর দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা মাস তিনেকের ওপর আন্দোলন করছেন। রাজ্যের প্রায় সমগ্র 'বাম' মহলও এই  আন্দোলনের শরিক। সংগ্রামী যুক্ত মঞ্চ জানিয়েছে তাঁদের দুটি দাবি- ১) হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সর্বভারতীয় হারে সমস্ত বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে। ২) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছভাবে সমস্ত শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ করতে হবে। পরে তাঁরা যোগ্য অনিয়মিতদের নিয়মিতকরণের দাবিটিও জুড়েছেন। বহুদিন পরে নিরাপদ সুখী গৃহকোণটি ছেড়ে পথে নেমে পড়া দেখে ভালই লাগছে। বিগত কোনও আন্দোলনে এই শ্রেণির সামগ্রিক ভাবে এ ভাবে ময়দানে নেমে পড়া দেখেছি মনে পড়ে না।  তাঁদের ডিএর...

লেনিন স্মৃতি

Image
উইলিয়াম গ্যালাচার [ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস পাবলিশিং হাউস, ১৯৩৯-এর ‘উই হ্যাভ মেট লেনিন’ থেকে সংগৃহীত। উইলি গ্যালাচার ১৯৩৫-১৯৫০ সাল পর্যন্ত স্কটল্যান্ডে ওয়েস্ট ফাইফের কমিউনিস্ট এম.পি হিসাবে এবং রেড ক্লাইডসাইড আন্দোলনের কর্মী হিসাবে কাজ করেছিলেন।]   মূল প্রবন্ধের লিঙ্ক:  https://challenge-magazine.org/2023/08/12/reminiscences-of-lenin/ বঙ্গানুবাদ: ডিলিজেন্ট পত্রিকা  ১৯২০ সালে আমি গ্লাসগোর ক্লাইড ওয়ার্কার্স কমিটি (শপ স্টুয়ার্ডস মুভমেন্ট)-এর সাথে যুক্ত কমরেডদের দ্বারা কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য নিযুক্ত হয়েছিলাম। আমরা সেই সময় “বাম” সংকীর্ণতাবাদী ছিলাম এবং ব্রিটিশ সোশ্যালিস্ট পার্টি (বি.এস.পি) ও সোশ্যালিস্ট লেবার পার্টি (এস.এল.পি)-র মধ্যেকার কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলাম। স্কটল্যান্ডে একটি “বিশুদ্ধ” কমিউনিস্ট পার্টি শুরু করার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি দল গঠন করা যেটি কোনো অবস্থাতেই লেবার পার্টি বা সংসদীয় কার্যকলাপকে স্পর্শ করবে না। আমার কাছে পাসপোর্ট না থাকায় এবং পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় আমি...